টেনশনে এমপিরা ; ৮ আসনে নৌকার মনোনয়ন চেয়েছেন একজন করে

টেনশনে এমপিরা ; ৮ আসনে নৌকার মনোনয়ন চেয়েছেন একজন করে

আমার পটিয়া.কম : ৩ হাজার ৩৬২ টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হলেও ৮ টি আসনে নৌকার মনোনয়ন একজন ছাড়া আর কেউ চাননি। ফলে এ-সব আসনে যিনি মনোনয়ন চেয়েছেন তার প্রার্থীতা নিশ্চিত। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষে গোপালগঞ্জ-৩ ও রংপুর-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন দলটির নেতারা। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের জন্য অন্য কেউ নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন চেয়ে ফরম তোলেননি।

একই তালিকায় রয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ সালাউদ্দিন ও শেখ তন্ময়। এসব নেতার আসনে আর কোনো প্রার্থী নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় ফরম সংগ্রহ করেননি। ফলে এ ৮ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থী একজন করেই থাকছেন। মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে তাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী রইলো না।

এদিকে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে আজ বৈঠকে বসছে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড। এই সভার মাধ্যমেই জাতীয় নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। দলীয় সূত্র জানায়- নানা দিক বিবেচনা করে এবার মনোনয়ন দেয়া হবে। বাদ পড়তে পারেন অনেক মন্ত্রী-এমপি। এ অবস্থায় দলীয় মনোনয়ন পাবেন কিনা এ নিয়ে অনেকে চিন্তায় রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সংসদীয় দলের বৈঠকে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, যোগ্যতা দিয়ে এবার মনোনয়ন পেতে হবে। এই সংসদে যারা আছেন তাদের অনেকে মনোনয়ন নাও পেতে পারেন। তাতে কেউ দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা বা বিদ্রোহী কর্মকাণ্ড করবেন না। যারা করবেন তার রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, এটি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সবাইকে নিজ যোগ্যতায় জয়ী হয়ে আসতে হবে।

দলীয় প্রধানের ওই বার্তায় মনোনয়ন নিয়ে টেনশনে রয়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদের অনেক মন্ত্রী ও এমপি। নির্বাচনের প্রায় দুই বছর আগে থেকেই এবার আওয়ামী লীগ নিয়মিত জরিপ কার্যক্রম চালিয়েছে বিভিন্ন আসন ঘিরে। তাই সাংগঠনিকভাবে কোনো মন্ত্রী বা এমপি এলাকায় কি ধরনের কাজ করেছেন তার বিস্তারিত রিপোর্ট রয়েছে দলীয় সভাপতির কাছে। এ নিয়ে একাধিকবার বার্তা দিয়েছেন শেখ হাসিনা ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তারা বলেছেন, কে কি করেছেন সব জানা আছে নেত্রীর। তাই জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা অনুযায়ী এবার মনোনয়ন দেয়া হবে। এদিকে দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরুর পর থেকে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ঢাকায় অবস্থান করছেন। প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর তাদের অনেকে এলাকায় যাবেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এখন ভিড় করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসা এবং কার্যালয়ে। মনোনয়ন বোর্ডে আছেন এমন নেতাদের কাছেও ভিড় করছেন তারা। দলীয় সূত্র বলছে, জোট- মহাজোটের জটিল সমীকরণের কারণে দলের অনেকের মনোনয়ন ঝুঁকিতে আছে। এ ছাড়া জরিপ রিপোর্টে যাদের বিষয়ে নেতিবাচক তথ্য এসেছে বর্তমান এমপি বা মন্ত্রী হলেও তাদের মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে না। এ তালিকা শেষ পর্যন্ত একশ’তে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। দলের ভেতর থেকে এসব বার্তা পাওয়ায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখন মহা টেনশনে সময় পার করছেন। আওয়ামী লীগের দুই সাংগঠনিক সম্পাদক মানবজমিনকে বলেন, আমরা যারা নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছি তারা সবাই টেনশনে আছি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মনোনয়নের এখতিয়ার আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের। এ কারণে অনেক আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীরাও টেনশনে রয়েছেন। কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না দল থেকে মনোনয়ন কে পাবেন। তবে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহকারী সবার বিশ্বাস সবাই দলীয় মনোনয়ন পাবেন।

এক্ষেত্রে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, দল কাকে মনোনয়ন দেবে তা দেখতে হলে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আজ সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক হবে। দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে সকাল ১১টা থেকে এই সভা হবে। প্রথমদিনে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সংসদীয় আসনগুলোর মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন সভাপতি হিসেবে রয়েছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। সদস্য হিসেবে রয়েছেন, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, কাজী জাফর উল্লাহ, রমেশ চন্দ্র সেন, ওবায়দুল কাদের, মো. রশিদুল আলম ও দীপু মনি। আওয়ামী লীগের কয়েক কেন্দ্রীয় নেতা মানবজমিনকে বলেন, বিতর্কিত মন্ত্রী ও এমপিদের তালিকা করা হয়েছে। সাংগঠনিক আমলনামা বিচার-বিশ্লেষণ করে আগামী নির্বাচনে তাদেরকে মনোনয়ন দেয়া হবে কি হবে না সে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মূলত তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অনেক মন্ত্রী ও এমপি’র বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কার্যক্রম না মানার অভিযোগ করা হয়েছে। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী দলীয় সভাপতির বরাবর বেশ কয়েক মন্ত্রী ও এমপি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে সরকারে রয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও ৩ জন উপ-মন্ত্রী।

এসব প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী মানবজমিনকে বলেন, যারা সাংগঠনিকভাবে দলে বিভেদ তৈরি করতে চায় তাদের বিষয়ে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। শেষ কয়েকটি মিটিংয়ে তিনি তাদের বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে তাও জানিয়েছেন। আমরা নেত্রীর নির্দেশনা মেনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছি। নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী এ ধরনের নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে দশম জাতীয় সংসদের ৫৬ জন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী দলের মনোনয়ন পাননি। এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে ৪৯ জন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ চারদিন দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে। ৩০০ আসনের বিপরীতে ৩ হাজার ৩৬২টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি আসনে কেবল একটি করে ফরম বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রির বুথ সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। অবশ্য ৪ দিনে ১২১টি ফরম অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। সেখানে কেউ এই ৮ আসনের জন্য ফরম কিনেছেন কি না তা নিশ্চিত করতে পারেনি সূত্র।

Related Articles