নির্বাচনী পোস্ট মর্টেম-১ ; ৫ বছরে ইসলামি ফ্রন্টের পটিয়ায় ভোট বেড়েছে ১ হাজার

নির্বাচনী পোস্ট মর্টেম-১ ; ৫ বছরে ইসলামি ফ্রন্টের পটিয়ায় ভোট বেড়েছে ১ হাজার

সম্পাদকীয় কলাম : নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্টের  বিগত ৫ বছরে সংসদীয় আসন পটিয়ায় ভোট বেড়েছে ১ হাজার থেকে সামান্য বেশি। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলটির চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন চট্টগ্রাম-১১ (পটিয়া) বর্তমানে চট্টগ্রাম-১২ থেকে নির্বাচন করে ভোট পেয়েছিলেন ৭২৫৮ টি। ৫ বছর পর গতকাল ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি মোমবাতি নিয়ে ভোট পেয়েছেন ৮২৯৮ টি। 

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দলটির চেয়ারম্যান এম এ মতিন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তখন দলটির নেতা-কর্মীরা মনে করেছিল দলটিকে হয়তো ২/১ আসন দিতে পারে সরকারি দল। দলটির চেয়ারম্যান পটিয়া এবং ফটিকছড়ি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পরে ফটিকছড়িতে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও পটিয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করেন। নির্বাচনে দলটির সংঘবদ্ধ ব্যাপক প্রচারণা ও গণসংযোগ ছিল চোখে পড়ার মত।অনেক ভোটারের মনে তারা এই আস্থা জম্মদিতে পেরেছিল এবার তারা হয়তো জিততে না পারলেও ভালো ফলাফল করবে। কিন্তু গতকালের নির্বাচনের ফলাফলের পর তাদের সেই পূরণো দৈন্যদশা আবারো প্রকাশ হয়ে পড়লো। দলটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত ছিল নির্বাচনে অংশগ্রহন করা-এমনটিই মনে করেন অনেক কর্মী।

দলের মনোনয়ন পত্র দাখিলের পর দলটির চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন পটিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে জানান,বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর কথায় আস্থা ও বিশ্বাস রেখে তিনি ও তার দল নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছেন। সেসময় তিনি বলেন, দেশকে বাঁচাতেই নির্বাচনে অংশগ্রহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। গতকাল সে-ই এম এ মতিনই উল্টোস্বরে নির্বাচন চলাকালীন নির্বাচন থেকে মাঝপথে সরে আসার কথা জানান।এতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। অনেক জায়গায় বিকেল ৪টা পর্যন্ত এজেন্ট থাকলেও নির্বাচন থেকে সরে আসার সংবাদের অনেক কেন্দ্র থেকে দুপুরের পর এজেন্টরা চলে যায়।

জিরি, কশিয়াইশ, আশিয়া, কোলাগাঁও, কুসুমপুরায় অনেক কেন্দ্রে দুপুরের পর এজেন্টদের দেখা পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ , অংশগ্রহনমূলক হয়না, তাই দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে বিএনপিসহ অনেক দল যখন নির্বাচন বয়কট করেছেন তখন ইসলামি ফ্রন্ট সরকারি দলের কথায় ও আশ্বাসে নির্বাচনে অংশগ্রহন করে কী অর্জন করলো দলটির কর্মীদের কাছে সেই প্রশ্নের মুখোমূখী হতে হবে দলটির নেতাদের ।

Related Articles