ওরা ৪ ভাই… চাঁদাবাজিই তাদের পেশা

ওরা ৪ ভাই…  চাঁদাবাজিই তাদের পেশা

পটিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : ওরা ৪ ভাই। চাঁদাবাজিই তাদের পেশা। সারা রাত জেগে থেকে সড়ক মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা তোলে। সকালে ঘুমিয়ে পড়ে। সারাদিন ঘুমিয়ে সন্ধ্যায় ঘুম থেকে ওঠে আবার শুরু করে চাঁদাবাজির প্রস্তুতি।দিনের বেলায় ওরা কারো ফোন ধরেনা। স্ত্রী বা সন্তানেরা ফোন ধরে বলে -ঘুমিয়ে আছে, আপনি সন্ধ্যার পর ফোন করুন।

আমিন প্রকাশ মোটা আমিন নামেই সবাই তাকে চিনে। ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার সদর থানার সুলতানপুর গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার পুত্র আমিন নিকটাত্মীয় নুরুর হাত ধরে ভাগ্য অন্বেষনে পটিয়ায় আসে বিএনপি সরকারের সময়ে ১৯৯২ সালে। নুরুর সহযোগিতায় ড্রাইভারি শিখে বেবি টেক্সি চালাতো।  থাকতো পটিয়া রেলওয়ে স্টেশন কলোনীর বস্তিতে। এখন থাকে ৪ ভাই ৪টি আলিশান ভাড়া বাড়িতে। নুরু তখন থানার ওসির ব্যক্তিগত বাজার সদাই করতো। সে সুবাদে পরিচিত হয়ে ওঠে আমিন। শরীরে মোটা হলেও মাথা মোটা ছিল না তার। ছিল ধুর্ত প্রকৃতির। ওসির সাথে সখ্যতার পাশাপাশি তৎকালীন ট্রাফিন সার্জেন্ট আরিফের নজরে পড়ে।বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে পুলিশের।

প্রথমে সোর্স তারপর ট্রাফিক পুলিশের নাম ভাঙিয়ে শুরু করে কাঠ পাচার। এভাবে পটিয়া থেকে কাঠপাচারে দক্ষ হয়ে ওঠে। পটিয়ার বনাঞ্চল উজাড় করার অন্যতম নায়ক আমিন। নিজের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে জ্ঞাতি ভাই নুরুকে থানা থেকে আউট করে দিয়ে নিয়ে আসে নিজের ৪ ভাইকে। এই ৪ ভাই আমিন, রাজু, সাজেদুল ইসলাম সাজু এবং মনির মিলে গড়ে তোলে পটিয়ায় অপরাধ সাম্রাজ্য।

বিএনপি গিয়ে আসে ১/১১ সরকার। কিছুদিন চুপচাপ থেকে যখন রাজনৈতিক সরকার আসে তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে আবারো শুরু করে কাঠ পাচার। বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে পটিয়ার হাইদগাঁও, কেলিশহর এলাকার সরকারি ও ব্যক্তিগত মালিকাধীন বনের গাছ কেটে পাচার করে আমিন হয়ে ওঠে কোটিপতি।বর্তমানে পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড বাহুলী, কেলিশহর, হাইদগাঁও ও পাহাড়ে তার কয়েক হাজার একর জায়গা রয়েছে।তার ভাই রাজু সন্ধ্যার পর কমলমুন্সী হাট আনসার ক্যাম্পের পাশে মালবাহী ও খালি ট্রাক এবং কাবার্ড ভ্যান থামিয়ে গাড়ি প্রতি ১ শ থেকে ১ হাজার টাকা আদায় করে থাকে।

চাঁদাবাজিকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া কমলমুন্সিরহাট এলাকায় নগদ টাকাসহ র‌্যাবের একটি টহল দল আমিনের ভাই সাজেদুল ইসলাম সাজু (৩৮)চাঁদাবাজির সময় আটক করে। পরে সে জামিনে বেরিয়ে এসে সাবেক এমপি সামশুল হক চৌধুরীর ভাই মহব্বতের ব্যক্তিগত গাড়ির ড্রাইভার সেজে আবারো চাঁদাবাজি শুরু করে। ক্ষমতাশালী এমপির ভাইয়ের গাড়ি চালক হওয়ায় এসময় সে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা পাচারে জড়িত হয়ে পড়ে বলে মাদক নিয়ন্ত্র্রন অধিদপ্তরের নজরদারিতে আসে।সে সময় র‌্যাব-৭ এর ডিএডি আবুল কালাম আজাদ (নৌ) বাদী হয়ে পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে দীর্ঘদিন ৪ ভাইয়ের সিন্ডিকেট প্রতিদিন রাতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের নামে গাছ, বাশঁ, ইট, লবণ, গ্যাস, তরিতরকারি বোঝাই গাড়ি থেকে হাজার হাজার টাকা অবৈধ ভাবে চাঁদা আদায় করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, কেউ অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে কাউকে চাঁদা তোলার দায়িত্ব দেয়া হয়নি। এমনটি করে থাকলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন আজই আমি এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।#২/৩/২০২৪

Related Articles